নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি সরকারি চিঠিতে একাধিক বানান ভুল ধরা পড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ড. মোসা. মাহমুদা খাতুনের জারি করা ওই চিঠিটি সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, সরকার নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে উপজেলার সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে চিঠিটি জারি করা হয়। তবে চিঠিতে ‘উপযুক্ত’ শব্দটি ‘উর্পযুক্ত’, ‘সূত্রের’ পরিবর্তে ‘সুত্রের’, ‘সূচি’ এর পরিবর্তে ‘সুচি’, ‘গ্রহণ’ এর স্থলে ‘গ্রহোন’ এবং ‘প্রয়োজনীয়’ এর পরিবর্তে ‘প্রোয়োজনীয়’ লেখা হয়েছে—এমন অন্তত পাঁচটি বানান ভুল চিহ্নিত করেন সচেতন মহল।
চিঠিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন ভুল কতটা গ্রহণযোগ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, “যিনি শিক্ষা ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্বে আছেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিঠিতেই একাধিক বানান ভুল থাকা দুঃখজনক। এ ধরনের অসতর্কতা কাম্য নয়।”
আরেক বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, “সরকারি নথিপত্রে এ ধরনের ভুল সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।”
মাসুদ রানা বলেন, “বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করা শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের কাছ থেকেই শিক্ষার্থীরা শেখে, তাই এ ধরনের ভুল নেতিবাচক বার্তা দেয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মোসা মাহমুদা খাতুন বলেন, “বিষয়টি নজরে আসার পর চিঠির ভুল সংশোধন করা হয়েছে।” তবে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি, জানান তিনি একটি সভায় ব্যস্ত রয়েছেন।
ঘটনাটি প্রশাসনিক নথিপত্রে ভাষার শুদ্ধতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।