দেশ ব্যাপি হাম রোগের প্রার্দুভাব দেখা দেয়ার মাঝে মৌলভীবাজারেও হঠাৎ করেই ধরা পড়েছে হাম সংক্রমণ রোগ। এতে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হাম সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮ জন রোগী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নিচতলায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্ক মিলে মোট ৮ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি ৮ জন এর মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সোমবার রাতেই সিলেট এমএজি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারে জেলায় হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই শিশু আর অন্যরা বয়স্ক। এরই মধ্যে জেলা সদর সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে হাম সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। এমন প্রেক্ষাপটে জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রেখেছেন ২০ বেডের আইসোলেশন। ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আর বয়স্কদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৮ জন রোগী আসেন। তাদের নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া সদর হাসপাতালে সন্দেহভাজন কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবার দ্বায়িত্বে থাকা সিনিয়র নার্স রোবেকা আক্তার চৌধুরী জানান, আমাদের এখানে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৭জন। আমরা যথারীতি হামের যে চিকিৎসা তা তাদের দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত রোগীরা আমাদের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্ট। তবে কোন শিশুর অবস্থা যদি বেশি খারাপ হয় অর্থাৎ ব্লিডিং হয় তাহলে আমরা সিলেটে রেফার্ড করি।
মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক ডা: প্রণয় কান্তি দাস জানান, আমরা বয়স্ক ও শিশুদের আলাদা আলাদা ভাবে চিকিৎসা দিচ্ছি। কোন সমস্যা হচ্ছেনা। এছাড়াও হাম রোগের প্রার্দুভাব মোকাবেলায় আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০টি বেড।