ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে ১২ জনের মৃত্যর ঘটনায় সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান দিরাই থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এছাড়া জগন্নাথপুর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত আমিনুর রহমানের বাবা পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান।
জানা যায়, লিবিয়া থেকে ছোট রাবারের বোটে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১২ জনের করুণ মৃত্যু হয়।
গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৩ জনকে নিয়ে বোটে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা।
শুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে ভুমধ্যসাগরে বোটই তারা প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভুমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন ও জগন্নাথপুরের ৫ জন রয়েছেন।
নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ দিরাই উপজেলার মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দালালদের তালিকা প্রস্তুত করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুমধ্যসাগরে নিহতদের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন সব সময় রয়েছে।