যেখানে বলা হয়, “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”, সেখানে রামগঞ্জে কৃষক সেচ পাম্প চালাতে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারন করায় চলতি বোরো মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সেচ পাম্প চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রামগঞ্জে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের কৃষি অর্থনীতি—এমন আশঙ্কাই করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়েও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমিতে পানি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, যা ধানের ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কৃষকেরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। তাদের দাবি, সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সহজলভ্য দামে ডিজেল সরবরাহ করতে হবে। তা না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি না পেলে বোরো ধানের ফলন কমে যায়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
তারা আরো বলেন, “আগে যেখানে নির্দিষ্ট দামে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে বেশি টাকা দিয়েও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: সাব্বির আহমেদ সিফাত বলেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।