× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ফুলবাড়ীতে সড়কের বাঁকে বাঁকে মরা গাছ ও গাছের গুড়ি

ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের চলাচল, উপসারণের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের

অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৪ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট সড়কের বাঁকে বাঁকে মরা গাছ আর গাছে গুড়ি পড়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোটবড় যানবাহন ও পথচারীদের।

ফুলবাড়ী-মাদিলাহাটের ৮ কিলোমিটার সড়কের দুইধারে অর্ধশত মরা ও আধামরা গাছ বিপজ্জনকভাবে বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আবার বেশ কিছু মরা গাছ কেটে গুড়ি করে সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে আছে। বছর ধরে গাছ ও গাছের গুড়িগুলো সড়কের পাশে পড়ে থাকলেও অপসারণের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট ৮ কিলোমিটার সড়কের দুইধারে লাগানো বিদেশি প্রজাতির গাছগুলো পর্যায়ক্রমে মরতে শুরু করার পর থেকে একে একে মরে যাওয়ায় মরা গাছের ডালপালাগুলো সড়কের ওপর হেলেদুলে পড়ে থাকায় যানবাহনসহ পথচারীদের যাতায়াতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব গাছের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঝুঁকিপূর্ণ গাছের কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে মাদিলাহাটের অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চালক হাসিবুল হোসেন, ছবিরুল ইসলাম, দ্বীজেন চন্দ্র, লোকমান হোসেন ও জিয়ারুল হক বলেন, সড়কের ওপর ফরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছ ও গাছের গুড়িগুলোর জন্য দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই  প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলার পরও কেউ এদিকে নজর দিচ্ছেন না। ফলে  বছরের পর বছর পড়ে থাকছে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে সড়কের ওপর।

এদিকে এক বছর আগে ঝড়ো হাওয়ায় পড়া যাওয়া গাছ ও গাছের গুড়িগুলোর মধ্যে একই সড়কের ফুলবাড়ী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে ২টি গাছের গোলাই, সুজাপুরে ১০ টি, চাঁদপাড়া স্কুলে ২টি ও মেলাবাড়ীতে ২টি পড়ে রয়েছে। পরিত্যক্ত থাকায় এসব গাছ, গাছের গুড়ি ও গোলাই রোদ-বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হওয়ায় মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এগুলো সময় মতো বিক্রি করা গেলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তদারকি না থাকায় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক ও মেলাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (হতশিলদার) লুৎফর রহমান বলেন, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি কাঁঠাল ও একটি নিম গাছ কাটা হয়েছিল। এজন্য পাঁচ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। যেখাতে তিনিই (তহশিলদার) ছিলেন আহবায়ক। কমিটির কাছ এসব পরিত্যক্ত গাছ ও কাঠ বিক্রির জন্য দরপত্র আহবান করা। কিন্তু পরবর্তীতে কমিটির কাজ আর এগোয়নি বলে গাছগুলো পড়ে রয়েছে। মনে হয় কখন যে গাছের ডাল শরীরের ওপর পড়ে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল সিরাজ বলেন, ‘গ্রামের বাড়ীতে যাওয়ার সময় এই রাস্তা দিয়ে গেলেই দুর্ঘটনার আতঙ্ক কাজ করে। প্রশাসনের উচিত গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করা।

উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং ৫নং খয়েরবাড়ী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শামিম হোসেন বলেন, শুধুমাত্র ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট সড়কেই নয়, প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর দুইধারের মরা গাছ ও ডালপালা ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। কালবৈশাখী শুরু হয়েছে, এখনই এসব গাছ ও গুড়ি অপসারণ করা না হলে যেকোন সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহাণির শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কের গাছগুলো প্রকৃত মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গাছ ও গাছের গুড়ি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ‘উপজেলার কোথায় কোথায় মরা গাছ ও গোলাই আছে তা অনুসন্ধান করে দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।’

দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ফাহিম মাসউদ বলেন, ‘বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় এমন মরা গাছের বিষয়ে আমাদের জানালে সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.