পটুয়াখালী জেলার কলাতলা এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জহির মেহেরুন নার্সিং কলেজকে ঘিরে পরকিয়ার অভিযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজটির চেয়ারম্যান ও এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রথমে প্রকাশের পরই আলোচনা শুরু হলেও, পরবর্তীতে জাতীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন—জহির মেহেরুন নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক আয়শা আক্তার। গত ২৭ মার্চ ঝালকাঠী সদর উপজেলার আলীপুর শশাংক গ্রামে শিক্ষিকার শ্বশুরবাড়িতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় ঘটনাটি জানাজানি হলে তারা ঘরে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা, এক ভরি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে শিক্ষিকা ও তার শিশুসন্তানকে সঙ্গে করে একটি প্রাইভেটকারে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৩১ মার্চ ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিক্ষিকার স্বামী মো. মশিউর রহমান মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের সঙ্গে আয়শা আক্তারের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং তা পরবর্তীতে অবৈধ সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অধিকাংশ মন্তব্যেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি নার্সিং কলেজের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সুষ্ঠু সমাধান জরুরি।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে—অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানা অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা রয়েছে, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কলেজটির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ ঘটনায় অস্বস্তি বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সুনাম নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।
তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও শিক্ষিকার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।