দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সোয়া ঘণ্টার শিলাবৃষ্টির তান্ডবে ছিন্নভিন্ন হয়ে আম, লিচু, ভুট্টা ও ক্ষেতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ীর টিনের চালা ঝাজরা হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল পৌণে পাঁচটা পর্যন্ত সোয়া ঘণ্টাব্যাপী ফুলবাড়ী উপজেলার ১নং এলুয়ারি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে আম, লিচু, ভুট্টা ও ক্ষেতের আগাম ইরিবোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বড় বড় শিলার আঘাতে গ্রামের ঘরবাড়ীর টিনের চালা ঝাজরা হয়ে গেছে। শিলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে আম, ভুট্টা ও লিচু গাছের পাতা। ক্ষেতের মধ্যেই ঝরে গেছে আগাম ইরিবোরো ধান। শিলাবৃষ্টির তান্ডবে আম, লিচু, ভুট্টাসহ আগাম ইরিবোরো ধানের পাশাপাশি ঘরবাড়ীর টিনের চালা ঝাজরা হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এদিকে শিলাবৃষ্টির তান্ডব ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। বিষয়টি জানার পর রাত সাড়ে ৮টায় এলুয়ারি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি গ্রামের মধ্যে ৪টি পরিদর্শন করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় জেলা প্রশাসক চার গ্রামের ক্ষয়ক্ষতি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পানিকাটা গ্রামের আনোয়ার সাদাত বলেন, শিলাবৃষ্টিতে পাঁচটি ঘরের টিনের চালা ঝাজরা হয়ে গেছে। এতে ঘরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ায় ওই পাঁচ ঘরের বাড়ীর লোকজন অন্যসব ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিন বিঘা আগাম জাতের ইরিবোরো ক্ষেতের ধান পুরোপুরি ঝরে পড়েছে।
একই গ্রামের সোলেমান হোসেন বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তার আড়াই বিঘা জমির আগাম ধান ঝরে পড়েছে। এখন ওই জমি থেকে এক কেজি ধানও পাবেন না বলে জানান তিনি।
পুটকিয়া গ্রামে মোকছেদ আলী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তার পাঁচ বিঘা জমির ধান গাছের ধান ঝরে পড়েছে। শিলার আঘাতে পুরো ক্ষেতের ধান গাছেরই মাজা ভেঙ্গে গেছে।
এদিকে শিলার আঘাতে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫টি এবং একই এলাকার আতাউর রহমানের ২০টি লিচুর গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে প্রতিটি লিচু গাছের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। গাছের লিচুর গুটি পড়ে গেছে। একইভাবে শিলার আঘাতে আম গাছেরও আম ও গাছের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শিলার আঘাত সহ্য করতে না পেরে গাছে আমের গুটিগুলো পড়ে গেছে।
এলুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নবিউল ইসলাম বলেন, শিলার তান্ডবে এলাকার ধানের ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, গাছপালার ফল ও পাতা ছিন্নভিন্নসহ গাছের ছালও উঠে গেছে পাথরের আঘাতে। ঘরবাড়ীর টিনের চালা ঝাজরা হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের বানাহার, উষাহার, জগন্নাথপুর, শিবপুর, পানিকাটাসহ চারটি ওয়ার্ডের ঘরবাড়ী, আম ও লিচুর গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। নিরূপণ কাজ শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে বলা যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ্ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। নিরূপণ কাজ শেষ হলে বলা যাবে শিলার আঘাত কতটুকু ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বলা যায় ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, শিলার তান্ডবে এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। সেজন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হবে। শিলার আঘাতে ঘরবাড়ী, আম, লিচুর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের মাঠ শেষ হয়ে গেছে। এতে কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
