জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঝিনাইগাতী উপজেলার ঝিনাইগাতী সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সন্ধ্যাকুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুরুচরণ দুধনই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীবরদী উপজেলার শ্রীবরদী আকবরিয়া পাইলট ইন্সটিটিউশন, ভায়াডাঙ্গা মদিনা উলুম কওমী মাদরাসা, টেংগরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগেই অনেক ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সারারাত ধরে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের লাইন আরও দীর্ঘ হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত ও প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান।
রূপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে ধানের শীষের প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে একটি পক্ষ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো এলাকা ঢেকে রাখা হয়েছে।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিম, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
