নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট দখলে নিতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের দুই গ্রুপে বন্ধু যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আধা ঘন্টা চলা সংঘর্ষে গুলিতে শিশুসহ ২জন আহত হয়েছে। এছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আরো ৮জন আহত হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিট গার্মেন্টেসের সামনে এঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদ খোকা মিয়ার ছেলে রাকিব (২২), মাদ্রাসা ছাত্র ইমরান হোসেন (১২)। এছাড়া ইটপাটকেলে আহতরা হলেন- খোকা মিয়াসহ ৮জন তাদের নাম তাৎক্ষনিক পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদল সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ গ্রুপের সাথে বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিট গার্মেন্টসের ঝুট দখলে নিতে দেশি বিদেশী অস্ত্র হাতে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপ বন্ধুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। একে অপরকে লক্ষ করে গুলি আর বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় মাসুদ গ্রুপের রাকিব ও পথচারী এমরান হোসেন নামে মাদ্রাসা ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়। তখন গুলি ও বোমার শব্দে পুরো চাঁদনী হাউজিং এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাড়ি ঘরের দরজা জানালা লাগিয়ে ভয়ে এলাকাবাসী ঘরে আবদ্ধ হয়। তখন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাদ্রাসা ছাত্র এমরান বেশ কিছু সময় রাস্তায় কাতরাতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সহ রাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে এমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার বাবা আসমাউল হোসেন। তিনি বলেন এমরানের বুকের নিচে মাঝখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরন হয়েছে। জরুরী তাকে রক্ত দিতে হবে। ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, চাঁদনী হাউজিংয়ে বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিট কারখানার ঝুট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি গ্রুপের অভি তার দলবল নিয়ে নামাতেন। কয়েকদিন যাবত ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ, এনায়েতনগর ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা মিয়া, ফতুল্লা থানা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ দলবল নিয়ে বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিটে ঝুট নামাতে বাধা দিয়ে আসছে। এতে উভয় পক্ষই দেশী বিদেশী অস্ত্র মজুত করে সকাল থেকে গার্মেন্টসের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এলাকাবাসীর দাবী এতো আগ্নেয়াস্ত্র কখনো ফতুল্লায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাদের মুখোমুখি বন্ধুক যুদ্ধ এলাকাবাসী আতংকিত করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। আহতদের খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।