ঢাকার নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিমুলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে একদল দৃর্বৃত্ত। এসময় জামাতাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তাঁর ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ শাশুড়ি রমেলা বেগমও। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা যায়- শনিবার সকাল ৯টা। শোল্লা ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে শাশুড়িকে নিয়ে বের হন সাইফুল ইসলাম শিমুল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দক্ষিণ জামসা গাজী চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড়ে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী। মোটরসাইকেলটি মোড় পার হওয়ার সময় তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা।
নেতৃত্বে থাকা সিফাত (আজিজ মাস্টারের ছেলে) প্রথমে শিমুলের মাথায় আঘাত করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর শুরু হয় এলোপাতাড়ি কোপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাড় গুঁড়ো করার নৃশংসতা। পাশে থাকা শাশুড়ি চিৎকার করে জামাতাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুধঘাটা-জামসা-সুকানিপাড়া মাদরাসা ও ঈদগাহর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আজিজ মাস্টার ও কাজী শহীদুল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে বিএনপি নেতা শিমুলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল।
গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকে বিষয়টি ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকেই কাজী শহীদুল্লাহ বিএনপি নেতা শিমুলকে 'দেখে নেওয়ার' প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। আজকের হামলা সেই হুমকিরই প্রতিফলন বলে দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তড়িঘড়ি করে ভর্তি করা হয় আহতদের। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটিকে কেন্দ্র করে এমন পাশবিকতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম খান জানান, পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের জবানবন্দি নিয়েছে। তিনি বলেন, "ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।