× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইসলামি আন্দোলন নেতার বি'রুদ্ধে এতিমদের নামে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পটুয়াখালীতে আলোড়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে অবস্থিত ‘ফারুকিয়া শিশু সদন ও এতিমখানা’কে ঘিরে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফারুক হোসেন মাস্টার, যিনি ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় এক নেতা হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এতিমখানাটিতে সরকারি অনুদান উত্তোলনে নানা অনিয়ম হয়ে আসছে। শুরুতে ১৭০ জন এতিম শিক্ষার্থীর তালিকা দেখিয়ে ৮৫ জনের বিপরীতে মাথাপিছু ২ হাজার টাকা হিসেবে মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হতো।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ অনলাইন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির পর ১০০ জনের তালিকা দেখিয়ে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর নামে মাসে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৫ জন শিক্ষার্থীর নামে অনুদান উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে উপস্থিতি ছিল খুবই কম। একইভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭ জন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে মাত্র ৭ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী এনে উপস্থিত দেখানো হয়। পটুয়াখালী শহরের অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে শিক্ষার্থী ‘ভাড়া’ করে আনার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মাতব্বর বলেন, “বছরের পর বছর মাদ্রাসার নাম শুনি, কিন্তু বাস্তবে ছাত্র দেখা যায় না। অনুষ্ঠান হলে বাইরে থেকে ছাত্র এনে ভিড় দেখানো হয়।”

শামসুল হক তালুকদার জানান,“শুরুর দিকে মানুষ সহযোগিতা করলেও এখন অনিয়মের কারণে কেউ পাশে নেই। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র দেখিয়ে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।”

মোহাম্মদ বনি আমিনের অভিযোগ,“বছরে দুইবার মাহফিল করে বড় অঙ্কের টাকা তোলা হয়। কিছু নামধারী আলেমও এতে জড়িত থেকে অংশ নিচ্ছেন। অতিথি আলেমদের সম্মানীও ঠিকমতো দেওয়া হয় না।”

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের দায়িত্বকালীন সময়ে অনুদান অনুমোদন ও উত্তোলন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।”

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম শাহজাদা বলেন,“উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে মনিটরিং টিম রয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে।”

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্টদের ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় অভিযোগকারীদের হুমকি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ফারুক হোসেন মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“সমাজসেবা কার্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়, আমি জোর করে নিই না। তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা রয়েছে, অনেকেই ছুটিতে আছে। এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার।”

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, অভিযোগটি ব্যক্তিগত। প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, এতিমদের নামে অনুদান আত্মসাৎ শুধু দুর্নীতি নয়, এটি একটি গুরুতর মানবিক অপরাধ—যার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.