চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আবুল খায়ের রোলিং মিলস লিমিটেডে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ফলে একটি পরিকল্পিত ডাকাতির প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। আজ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ ভোর আনুমানিক ০৬:০০ ঘটিকার সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল কারখানাটিতে অনুপ্রবেশ করে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক ক্যাবল কাটতে শুরু করে। এ সময় কারখানায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দলের অতর্কিত হামলা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার্থে আনসার সদস্যরা প্রথমে ০১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ নিক্ষেপ করেন। তবে ডাকাত দল পিছু না হটে আরও সহিংস হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে সদস্যরা ০৩ রাউন্ড সিসা কার্তুজ নিক্ষেপ করতে বাধ্য হন। আনসার সদস্যদের এই অনমনীয় ও সাহসী প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আনসার সদস্যরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ০৩ জন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতদের কাছ থেকে আনুমানিক ৩২০ কেজি বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রামদা এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর গ্রামের মোঃ জাবেদ (২৭), পিতা: মোঃ সিরাজ; একই থানার ফুলতলা গ্রামের মোঃ শরিফুর রহমান (২৮), পিতা: মোঃ আবুল কালাম; এবং নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ এলাকার মোঃ রাসেল (২৯), পিতা: মোঃ শাহজাহান।
ঘটনার পরপরই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন। পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের উদ্ধারকৃত মালামালসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, আনসার সদস্যদের এই তাৎক্ষণিক, সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কারখানাটি একটি বড় ধরনের নাশকতা এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে; পাশাপাশি অভিযানে বাহিনীর কোনো সদস্যের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়াও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।
দেশের শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির এমন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে, বাহিনীর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করা হচ্ছে।