কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অহেতুক মিথ্যা মামলা দিয়ে একাধিক গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত ছাড়া কারও বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের বেতাল ও রামদি গ্রামে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অবিলম্বে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং জুলুম-নির্যাতন থেকে প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উপস্থিত লোকজন।
এ সময় ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—মতিউর রহমান আকন্দ, ইকবাল ভুঁইয়া, রেশমা ওরফে হালিমা খাতুন, কফিল উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, ফেরদৌস, আলী হোসেন, নজরুল, হাকিম, মাইনুদ্দিন, মুতি, সাথী আক্তার, ইকরা, শারমিন, রহিমা, রেহেনা ও অনুফা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে আতিকুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, আমরা নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে গ্রামের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বেতাল গ্রামের আব্দুল মতিন ওরফে বাতেন নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও মেয়ের পুলিশের চাকরির প্রভাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিগত সরকার থেকে এখন পর্যন্ত অনেক মামলা করেছেন। তার দাপটে এলাকায় সবাই আতঙ্কিত। নিজের মতের অমিল হলেই নানান রকমের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ওই ব্যক্তির বাড়ির সীমানা ও জমিজমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কেউ তার রোষানল থেকে রেহাই পাননি। এসব মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেকের এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার নির্যাতন ছিল অপ্রতিরোধ্য, বর্তমানেও তা কমেনি। কিছুদিন আগে প্রতিবেশী রেশমা ওরফে হালিমা খাতুনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নিজের জমির গাছ বিক্রি করেও মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না ওই দরিদ্র পরিবারটি। আমরা গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল মতিন বাতেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। উল্টো তারাই বিভিন্ন সময়ে আমার জমি দখলের চেষ্টা করেছে। আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্রে আমার সঙ্গে না পেরে প্রতিহিংসা থেকে তারা এক হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও আমার পুলিশ কন্যার পরিচয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগও সত্য নয়। বরং আমিই নির্যাতনের শিকার।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, এসব বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন বাতেনের অনড় অবস্থানের কারণে সমস্যা সমাধান হয়নি।
কটিয়াদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ঈসরাইল মিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করুক—এটি আমরা সমর্থন করি না। অভিযোগ সত্য হলে তা দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকায় গিয়েও সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
