দিনব্যাপী এই উৎসবের সূচনা হয় সকালে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। শোভাযাত্রায় স্থানীয় মানুষজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিস্তা তীরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নানা লৌকিক খেলাধুলা—হাডুডু, মোরগযুদ্ধ, দড়িটানা, শিশু ও বড়দের দৌড় প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে তিস্তা তীরের লাঠিয়ালদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হাডুডু খেলা দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর।
বিকেলে আয়োজিত হয় শপথ গ্রহণ, লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী।নীলফামারীর জলঢাকা, শৈলমারী-বানপাড়া পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী তাঁর বক্তব্যে তিস্তা নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তিস্তা কেবল একটি নদী নয় এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে।তিনি আরও বলেন,“তিস্তা বাঁচাতে হলে শুধু আন্দোলন নয়, জনসচেতনতা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ একসাথে গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই বৈশাখী আয়োজন সেই চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।” শফিয়ার রহমান সরকারের প্রতি দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন রোধ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা তীরবর্তী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী নওয়ার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা ছাদেকুল ইসলাম,আব্দুর নূর দুলাল, মাহমুদ আলম,
গোলাম পাশা এলিচ,আলমগীর কবীর, ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান হোসেন,ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান,সাদেকুল ইসলাম সাদেকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তিস্তা নদী রক্ষায় সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে বৈশাখের আনন্দের পাশাপাশি তিস্তা রক্ষার আন্দোলনে নতুন প্রেরণা সঞ্চারিত হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।