জামালপুরে ১১ নং শীতলকুর্শা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী। তারা হলেন সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রামপুরা এলাকার মনিরুজ্জামান নয়ন এর ছেলে নসিব হোসেন নীরব (১২), শীতুলকুর্শা আব্দুল মান্নান এর মেয়ে মাইমুনা (১২), শীতলকুর্শা এলাকার খোরশেদ আলম এর মেয়ে সাবিহা (১২)। তারা প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ করছে। তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষক এ.কে. এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
সরোজমিন ও বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯২০ সালে স্থাপিত হয় শীতল কুর্শা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ৭ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে. এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ইসতিয়াক আহমেদ, সারিকা, আমেনা, তাসমিয়া,নসিব, মাইমুনা, সাবিহা নামের ৭ শিক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র অনলাইন থেকে সংরক্ষণ করে তার কাছে রাখেন। গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বিদ্যালয় থেকে ইসতিয়াক আহমেদ, সারিকা, আমেনা, তাসমিয়াকে প্রবেশ দিলেও ৩ মেধাবী শিক্ষার্থীকে রহস্যজনক কারণে প্রবেশ দেয়নি প্রধান শিক্ষক এ.কে. এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ। তিনি বিদালয়ে এ.কে. এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম করে আসছে। ইতিপুর্বেও বিভিন্ন কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শোকজ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থী নসিব, মাইমুনা ও সাবিহা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষার দিন সকালেও তাদের প্রবেশ পত্র দেয়নি প্রধান শিক্ষক। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
নসিবের মা চুমকি জানান, পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১৫ এপ্রিল থেকে এটা শুনে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে স্যারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রবেশ পত্র কেন দেননি। তিনি আমাদের বলে আপনারা যা করতে পারেন করেন গা।প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে তার ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। আমি বিচার চাই।
আরেক শিক্ষার্থীর মা শিউলি জানান, মেয়েকে কষ্ট করে পড়ালেখা করাচ্ছি। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে বলে প্রাইভেট পড়ায়ছি। আমাদের বাড়ী বিদ্যালয় মাঝ খানে ১ মিনিটের রাস্তা অথচ প্রধান শিক্ষক স্যার চালাকি করে আমাদের জানায়নি। তিনি দায়িত্ব এর অবহেলা করেছে। আমরা বিচার চাই।
সত্যতা স্বীকার করে ১১ নং শীতলকুর্শা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে. এম হাবিবুল্লাহ আকন্দ জানান, ৭ তারিখে প্রবেশ পত্র ডাউনলোড করেছি। আমি তাদের জানাতে পারিনি এটা আমার ভুল হয়েছে। আমরা ক্ষমা প্রার্থী।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) জাহিদুল ইসলাম জানান, যদি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবহেলায় শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করতে না পারে এটা মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনীন আখতার এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানকে মুঠোফোনে জানান, এমন হয়ে থাকলে আমরা তদন্ত করব। যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।