লক্ষ্মীপুরের ২০ নম্বর চর রমনী মোহন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিসেস নয়ন—একটি নাম, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সাথে নিজেকে উৎসর্গ করে আসছেন। সংগ্রামমুখর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ইউনিয়ন বিএনপি মহিলা দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে হাজারো নারীদের সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নিরলস পরিশ্রম ও জনসম্পৃক্ততার ফলস্বরূপ চর রমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে পরিষদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্বশীলতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রান্তিক কৃষক, নদীর জেলে, দিনমজুর, শ্রমিক ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এলাকার মানুষ তাকে ভালোবেসে ডাকেন—‘গরিবের নয়ন মেম্বার’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যক্তিগত স্বার্থকে উপেক্ষা করে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সমস্যার সমাধান করা—এটাই যেন তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
তবে তার এই মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড অনেকের চোখে হয়ে উঠেছে বিরক্তির কারণ। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অসাধু চক্র তার উন্নয়নমূলক কাজের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে জেলেদের চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু জেলে কার্ড ব্যবসায়ী ও ভিউ-নির্ভর অনলাইন চক্র বেনামি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে মিসেস নয়ন বলেন,
“আমি কখনো অন্যায় করি না, আর অন্যায়কারীদেরও ছাড় দেই না। কিছু মুখোশধারী মানুষের মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসা আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমি সবসময় নিরীহ মানুষের পক্ষে কথা বলেছি, বলবো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যাবো। পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই—আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই দুরন্ত গতিতে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও মিসেস নয়নের এই দৃঢ়তা ও মানবিকতা তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে জায়গা করে দিয়েছে।