× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

উজিরপুরে চতলবাড়ি–নারিকেলি সড়ক ভাঙন প্রকল্প অগ্রগতি ও সর্বশেষ আপডেট

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর-বানারীপাড়া (বরিশাল)

২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ এএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার চতলবাড়ি–নারিকেলি গ্রাম সংলগ্ন সড়কটি এখন শুধু একটি যোগাযোগের পথ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদী ভাঙনের কারণে সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আজ দুপুরে উজিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা সরেজমিনে চতলবাড়ি সংলগ্ন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন, যা স্থানীয়দের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ইউএনও ভাঙনকবলিত সড়কের বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে আস্থা তৈরি করেছে যে বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে।

চতলবাড়ি–নারিকেলি সড়কের একটি বড় অংশ নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে নদীর স্রোতের প্রভাবে মাটি ধসে পড়ছে এবং সড়কের প্রস্থ কিছু স্থানে সংকুচিত হয়ে গেছে। এর ফলে ভারী যানবাহন চলাচলে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা যাচাই করেছে। সে সময় স্থানীয় প্রতিনিধিরা সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, এটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের প্রধান চলাচলের পথ এবং এর কোনো কার্যকর বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এই বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বর্তমানে “সুগন্ধ্যা ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙন হতে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা কাজ (১ম পর্যায়)” শীর্ষক একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রায় ৯৫৫৪৮.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে নদী ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি সড়ক ও জনপদ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চতলবাড়ি এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চল উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রেরিত সরকারি পত্রে জানানো হয়েছে যে যাচাই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য তা প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি দ্রুত পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা এর বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় গুঠিয়া ইউনিয়নের দাশের হাট এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার বেরিবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত প্রশাসন ভারী যানবাহন চলাচল সীমিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সতর্কতা জোরদারের মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সাংসদ এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বিত এই কার্যক্রমে এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে চতলবাড়ি–নারিকেলি সড়কের ভাঙন সমস্যার একটি টেকসই সমাধান শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.