সাভার সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ‘সাভারবাসী’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ থেকে তাকে দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি বিধিমালা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। বন বিভাগের জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ, ভুয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিল সম্পাদন এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জাকির হোসেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অফিসের কর্মপরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্র শক্তির সাভার উপজেলা সভাপতি মেহেদী হাসান মুন্নাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় সাভারের সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নামমাত্র মূল বেতনে চাকরি করলেও রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে তার একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া পৈতৃক এলাকা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ একরের বেশি জমি এবং ডজনখানেক খামারের মালিক তিনি। এছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবিধা নিয়ে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাভারে পদায়ন বাগিয়ে নেন এবং এরপর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।