নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আদালতে মামলা দায়েরের জেরে বাদী ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজার এলাকার গরুহাটি সংলগ্ন একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন— সদর ইউনিয়নের রাজীব ডাঙ্গাপাড়া এলাকার দুলু মিয়া (৩২), ফজলু মিয়া (৬০), নুরনবী (৪০) ও নজরুল ইসলাম ব্যাল (৫৫)সহ আরও কয়েকজন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, তিস্তা সেচ ক্যানেলের রাস্তার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে গত ১৭ মার্চ স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এতে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সোনাবাবু (২৪)কে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর ভাইয়ের দোকানে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। এ সময় বাদীর ভাই বাদল ইসলামকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও হামলাকারীরা গিয়ে পুনরায় বাদীর পরিবারকে মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় তাদের।
আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী সোনাবাবু বলেন, “অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মামলা করার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
ভুক্তভোগী বাদল ইসলাম বলেন, “দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালে নিয়েও রেহাই পাইনি, সেখানেও এসে মারধর করা হয়েছে।”
বাদলের স্ত্রী হিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, “হাসপাতালে এসে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং আমাকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”