নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ‘মানবাধিকার কর্মী’ পরিচয়ে একটি বাড়িতে রাতে প্রবেশ ও হয়রানির অভিযোগে চারজনকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মুচলেকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে মশিয়ার রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাতের বেলায় ওই বাড়িতে যান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মশিয়ার রহমানের দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোথাও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে “ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইট অর্গানাইজেশন” ও “আইন সহায়তা ফাউন্ডেশন (আসফ)” পরিচয়ে চারজন ব্যক্তি হঠাৎ করে বাড়িতে উপস্থিত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিজেদের মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেন। এমনকি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন, যা উপস্থিত পরিবারকে আতঙ্কিত করে তোলে।
ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমান বলেন, “আমরা কোনো অভিযোগ করিনি। তারা রাতে এসে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে। এতে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছে।”
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারজনকে আটক করে একটি কক্ষে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকা কার্যালয় থেকে আসা ফোরকান, আবুল কাসেম, নাজমুল হোসেন এবং সংগঠনটির ডোমার উপজেলা সভাপতি রুনা লায়লা। তারা দাবি করেন, ভুক্তভোগী নারীর পরিবার মোবাইল ফোনে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানোয় তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগ না করার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সমন্বয় ছিল না। যদিও কয়েকদিন আগে তারা তাদের সংগঠনের কাগজপত্র দাখিল করেছিল।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই এভাবে রাতে বাড়িতে প্রবেশ কতটা বৈধ, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।