ডুমুরিয়া উপজেলায় চলমান লোডশেডিং বিপর্যস্ত করে তুলেছে জনজীবন। এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। এর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরম ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে জনজীবন। জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। তীব্র গরমের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬-৮ ঘণ্টার লোডশেডিং চলছে। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় ডুমুরিয়া উপজেলায় দফায় দফায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর,সাহস,নোয়াকাটি,ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া,কাঁঠালতলা,চুকনগর,আঠারোমাইল,শোলগাতিয়া, মিকশিমিল,শাহাপুর,রংপুর,ধামালিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়,সারাদিনে ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি বলে জানা গেছে।
গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ের থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি। কখনো ৮/৯ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়ে থাকে বলেও জানা গেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার নরণিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসনিম রশীদ বলেন, পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কোনদিন বিদ্যুৎ আসার আধাঘন্টা পরে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
চাকুন্দিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজী বলেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারছে না। তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫থেকে ৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ছেলে- মেয়েদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরম ও মশার উপদ্রবে একেবারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে আমাদের জীবন।
উপজেলার মুড়াবুনিয়া গ্রামের মাছ চাষী দেবব্রত মণ্ডল বলেন, আমার একটি চিংড়ি ঘের আছে, সেখানে মটর দিয়ে পানি দিতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালানো যায় না, এতে মাছের ক্ষতি হচ্ছে। এই গরমে লোডশেডিং বাড়লে পানির অভাবে পুরো ঘেরের মাছ মরে যেতে পারে। প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মেলেনা। বিদ্যুৎ নিয়ে আছি মহাযন্ত্রনায়।
কাঁঠালতলা বাজারের ব্যাবসায়ী রাব্বি বলেন,সন্ধ্যার পর প্রায় বিদ্যুৎ থাকে না। দিনের বেলাতেও চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ যায়। প্রতিবারই ১-২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুতের জন্য ঠিকমত ব্যাবসা করা যাচ্চেনা।
পুকুরে মাছ চাষী চুকনগরের রজব আলী বলেন,বৈশাখ মাসে পুকুরে সারাক্ষণ পানি দিতে হয়। দিনের বড় একটা সময় লোডশেডিং থাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকছে, এতে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মাছের রেনু বা পোনা উৎপাদনের ব্যবসা করেন, তাদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা লোডশেডিংয়ের কারণে গভীরভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্য ৭ টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে। এরমধ্যে দিনে ৫-৬ ঘন্টা লোডশেডিং থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। ঠিকমতো ব্যাবসা করতে না পারায় ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা যাচ্ছে না। অনেকে সমিতির কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা।
উপজেলার মাগুরাঘোনা গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, এ বছর দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছি। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যার কারণে খুব বিপদে আছি। প্রতিদিন লোডশেডিং থাকে, বিশেষ করে রাতে যখন পড়ার সবচেয়ে ভালো সময় ঠিক সেই সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকারে বসে ঠিকমতো পড়তে পারি না। মোবাইলের আলো বা চার্জলাইট দিয়ে যতটুকু পারি পড়ার চেষ্টা করি, কিন্তু এতে চোখে অনেক চাপ পড়ছে।
চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন বলেন,আমরা নিয়মিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছি ও বিদ্যুতের অপচয় কমানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
লোডশেডিং এর বিষয়ে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম সনঞ্জয় রায় বলেন, ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎ এর চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট, আমরা পাচ্ছি ৮ মেগাওয়াট। প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় আমরা গ্রাহকের চাহিদা প্রয়োজন মতো মেটাতে পারছি না। বিদ্যুতের অপচয় কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে।
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার তুষার কান্তি মন্ডল বলেন,পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। ডুমুরিয়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৬ থেকে ৩০ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছিনা। ফলে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছিনা। প্রতিদিন প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। সীমিত সরবরাহের মধ্যে চাহিদা সামাল দিতে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সেই কারণে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ডুমুরিয়াবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
