নীলফামারীতে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শেষ হলো উৎসবের রঙিন আবহে, সৃজনশীলতার ছন্দে আর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের সমাপনী দিনে রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ও পুরস্কার।
সমাপনী আয়োজন ছিল প্রাণচঞ্চল ও অংশগ্রহণে ভরপুর। চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। দিনশেষে সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাদের সৃজনশীলতাকে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম ও সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন। এছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
বক্তারা বলেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার আয়োজন নয়—এটি জ্ঞানচর্চা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই বলেও তারা মত দেন।
পুরস্কার বিতরণী পর্বে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিভিন্ন গ্রুপের বিজয়ীদের পাশাপাশি আবৃত্তি প্রতিযোগিতার তিনটি বিভাগের সেরাদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিশুদের হাসিমুখ আর অভিভাবকদের সন্তুষ্টি যেন আয়োজনের সফলতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
অভিভাবকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের বইমুখী করে তুলছে, পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল বিকাশেও রাখছে ইতিবাচক প্রভাব। তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
২৩ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় প্রায় ১০ হাজার বইয়ের প্রদর্শনী ও বিক্রি হয়েছে। বইয়ের পাশাপাশি গান, নৃত্য ও একক অভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মেলাকে দিয়েছে প্রাণ ও বৈচিত্র্য।
‘আলোকিত মানুষ চাই’—এই প্রত্যয়ে আয়োজিত ভ্রাম্যমাণ বইমেলা যেন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং একটি চলমান প্রেরণা। সংশ্লিষ্টদের আশা, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে রাখবে দৃশ্যমান ভূমিকা।