কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে দরবার প্রধান আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) ওরফে কালান্দার শামিমজাহাঙ্গীর কে হত্যার ঘটনায় ২জনকে গ্রেফতার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
ভিডিও ফুটেজ দেখে ও নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ২ টার দিকে ফিলিপনগর এলাকায় দৌলতপুর থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে
২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পশ্চিম দক্ষিন ফিলিপনগর এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩)
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের ২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ঐ ব্যক্তিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিমজাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুরে দরবার প্রধান শামিমজাহাঙ্গীর কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় দরবার শরিফে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করা হয়। নিহত শামিমজাহাঙ্গীর ঐ দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা শামিম জাহাঙ্গীর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তার ৩ অনুসারী-মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
পরে গত (১৩ এপ্রিল) সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামিমজাহাঙ্গীর এর বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এবং এ মামলায় এই প্রথম দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সপ্তম হয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।