টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদপুর এলাকার অলোয়া বিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ধান ডুবে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চোখের সামনে সোনালি ফসল নষ্ট হতে দেখে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে অলোয়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানির নিচে ডুবে থাকা ধানগাছ। অনেক কৃষক কোমর পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটার কাজ করছেন। তবে ধান কাটার সঙ্গে বাড়ছে খরচ, কমছে ফসল রক্ষার সম্ভাবনা।
রশিদপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার আক্ষেপ করে বলেছেন, তার প্রায় দুই বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই গ্রামের কৃষক আজহার জানিয়েছেন, ধান কাটার উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। পানির মধ্যে নেমে কাজ করতে শ্রমিকরা আগ্রহী না হওয়ায় ধান মাঠেই পড়ে আছে বলে তিনি জানান।
কৃষক বাহাজ উদ্দিন মন্তব্য করেন, কষ্ট করে কাটা ধানও ঠিকমতো শুকানো যাচ্ছে না। ভেজা ধান বাজারে নিলে দাম অনেক কমে যায়। ফলে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠবে না বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এ মৌসুমে শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পানিতে নেমে কাজ করতে অনাগ্রহের কারণে অনেক জমির ধান সময়মতো কাটা যাচ্ছে না, ফলে প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বললেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে পানি জমে ধান তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকৃতির এই আকস্মিক বিপর্যয়ে অলোয়া বিলের কৃষকেরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে গেলেও দ্রুত সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।