বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের নেতাকমর্ীদের মধ্যে সহিংসতারোধে পূর্ব নির্ধারিত খাল খনন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করায় ইউএনও উপর অসন্তুষ্ট স্থানীয় এমপি। এতে সরকারি কাজে এমপিকে অসহযোগিতা করার অভিযোগ এনে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে জামায়াত ইসলাম।
রোববার(৩মে) দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে এই কর্মসুচি পালন করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে অসহযোগিতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত খালখনন কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ এনে তাকে অবিলম্বে ঈশ্বরদী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গতকাল স্থানীয় এমপি আবু তালেব মন্ডল প্রধান অতিথি হিসেবে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীস্থ কমলা নদীর ক্যানেল চকশ্রীরামপুর ইক্ষু খামারের পুকুরের দক্ষিণপাড় হতে মুলাডুলি ড্যানিয়েল বাড়ি পর্যন্ত খাল পুণঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু, গত শুক্রবার (১মে) সন্ধ্যায় উপজেলার মুলাডুলিতে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা ও সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই কারণে সংঘর্ষের আশংকায় খাল খনন কর্মসুচি এমপি মহাদয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপরও এমপি সাহেব সরকারি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতে সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে খাল খনন উদ্বোধন করেন। আর দুপুরে ইউএনও অপসারণের দাবীতে মানবন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমীর গোলাম আজম খান বলেন- পাবনা-৪, (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পাবনা জেলা জামায়াত ইসলামের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সরকারি নিয়মানুসারে সরকারি খাল খননসহ সকল উন্নয়ন কর্মসূচি স্থানীয় এমপির তত্ত্বাবধায়ন ও সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু; বর্তমান ইউএনও সেই প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি। ইউএনও এই ধরণের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদও জানান জামায়াতের এই নেতা।
মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাঈদুল ইসলাম বলেন- প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। কিন্তু ঈশ্বরদীর বর্তমান ইউএনও সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে পক্ষপাত করছেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামের আইন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান এবং উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ রানা মাসুম প্রমুখ।
এ বিষয়ে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পাবনা জেলা জামায়াত ইসলামের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব “আমার সঙ্গে আলোচনা ও সময় নির্ধারণ করেই আজকে খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করেছিলেন। কিন্তু; হঠাৎ করে গত শনিবার রাতে ইউএনও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে খাল খনন কর্মসুচি স্থগিত করেন।
ইউএনও সরকারি দায়িত্বের প্রতি অবজ্ঞা ও অসহযোগিতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করে এমপি আরও বলেন- খাল খনন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখালেও বাস্তবে সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা ছিল না। এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত একটি সরকারি কর্মসূচি। এই জন্য আমি নিজে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেছি। অথচ ইউএনও সেখানে উপস্থিত হননি।
এ ব্যপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সব সময়ই স্থানীয় এমপিকে মাধ্যমে সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড করতে চাই। কিন্তু ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই কারণে উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে দুই দলের সঙ্গে সমন্বয় করে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা উপজেলা প্রশাসন গ্রহন করেছিল। এই হিসেবে প্রথমটি পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে। অপরটি জামায়াত ইসলামের স্থানীয় এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল মহাদয়কে দিয়ে উদ্বোধন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। তাঁকে প্রধান অতিহি ব্যানার প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু গত শুক্রবার মুলাডুলিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইউএনও আরও বলেন, এই অবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়নমুলক কর্মসুচি খাল খনন প্রকল্প জামায়াত ইসলামের এমপিকে দিয়ে করা হলে মুলাডুলিতে বড় ধরনের সহিংসতার আশংকা রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এমন তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে এমপি মহাদয়কে জানিয়ে কর্মসুচিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপর পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে এমপি মহাদয়কে দিয়েই কয়েকদিন পর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এটাকে জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা ভুল বুঝে মানববন্ধন করেছেন।
হাবিবুর রহমান হাবিবকে দিয়ে খাল খনন উদ্বোধনের বিষয়টি প্রশ্ন করলে উত্তরের তিনি বলেন, খাল খনন কাকে দিয়ে উদ্বোধন করা হবে সরকারী ভাবে কোন নির্দেশনা নাই।