রামপালে মৎস্যঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (০২ মে) রাত ৯ টায় উপজেলা ভাগা বাজার এলাকায় এ ঘটনায় বিএনপির উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রামপাল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে ও পুলিশের তথ্যমতে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিবাদমান মৎস্যঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যাক্তিকে ধরে এনে ভাগায় বিএনপির অফিসে এনে রাখা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের যাওয়ার পূর্বে বহিরাগত কয়েকজন ব্যাক্তি আটক ব্যাক্তিদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে দাবী করেন আকবর হোসেন আকো। তিনি জানান, ওই সময় তাদের গ্রুপের আকবর হোসেন আকো (৫৫), মাসুদ শেখ (৩৮), খোকন শেখ (৩৬), কামরুল শেখ (৪০), শামীম শেখ (৩২), জাহিদ শেখ (৩৫), হানিফা শেখ (৪০) ও সেকেন শেখ (৪৫) আহত হন। এদের মধ্যে মাসুদ ও খোকন কে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অপর পক্ষের কামাল হোসেন জানান, তাদের দুইজন লোক আটক করেছে শুনে ভাগা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষরা আব্বাস শেখ (৪৫), কামাল হোসেন (৩০), সোহাগ শেখ (২০), সাগর শেখ ((২০), রাজু শেখ (৪৫), ওসমান শেখ (৪১), ইসলাম শেখ (৩০) মারপিট করে গুরুতর আহত করে। ভাগা বাজারে বিএনপির অফিস ভাংচুর, কাকড়া ডিপো ভাংচুর, বিকাশের দোকান ভাংচুর, চায়ের দোকানসহ ভেটের্নারী ঔষধের দোকান ভাংচুর ও টাকা লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে আকবর হোসেনসহ বাজার কমিটির সভাপতি জানান, শামীম, আশা, আবু তালেব, মোশা, সফরুল গাজী ও কামালসহ শতাধিক লোকজন হামলা অফিস ভাংচুর, মারপিট ও লটপাট করেছে। অপরপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে বিএনপির অফিস ভাংচুর ও নেতৃবৃন্দের ছবি ছেড়ার বিষয়টি শহিদুল ইসলাম অস্বীকার করেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাগার ঘটনায় আমি সেখানে যাইনি বা ছিলাম না। কিন্তু আমার বাড়ীর সামনে এসে ভয়ভীতি, গালাগাল ও হুমকি প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, খবর পেয়েই জাহিদুলের বাড়ির সামনে গিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকি, যাতে কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে। তবে তিনি বলেন নিছক মৎস্যঘের সংক্রান্ত বিরোধ এটি। কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভাগার সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। রাত প্রায় ২ টা পর্যন্ত ভাগাতে তিনি অবস্থান করা কালিন সময়ে অফিস ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি। সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তায় উত্তেজনা দেখা গেলেও কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। হামলা, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভাগা বাজারের পাহারারত ব্যাক্তিদের জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। অফিস ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষের কেহই রামপাল থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি।#