বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাউস কাজির বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ তুলেছে তার বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে ইতিমধ্যে ক্ষিপ্ত হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। যেকোনো সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছে তারা। দলের বৃহত্তর সাথে অনতিবিলম্বে কলাতলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি গাউস কাজির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলি তদন্তপূর্বক দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) শৈলদাহ এস ই এস ডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলামের গতিরোধ করে পথচারী ও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে দুর্ব্যবহার করে। তাছাড়া হুমকি দিয়ে বলে ভবিষ্যতে তার অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিনাম আরো ভয়াবহ হবে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মোঃ মিরাজুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার সহকর্মীরা সান্তনা দিলেও শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ শৈলদহ এলাকায় মধুমতি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বালু উত্তমের সুযোগ দিয়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ ঘটনায় প্রশাসনকে জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। তাছাড়া স্থানীয় আজগর আলী শেখকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে সভাপতি গাউস শেখ। গত ৫ আগস্ট কাননচক বাজারে ১৫-২০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট এর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একটি দোকান থেকেই কমপক্ষে ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাছাড়া, সিলেটের এক মুসলিম মেয়েকে জোরপূর্বক হিন্দু যুবকের সঙ্গে হিন্দু রীতিতে বিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। ওই পরিবারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করেছে বলেও জানা গেছে। শৈলদাহ গুচ্ছগ্রামের আকরাম শেখ নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার জমি নামমাত্র মূল্যে অন্যদের নামে দলিল করে দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তার এই অবৈধ কাজে সহায়তাকারী হিসেবে রয়েছে টুলু ফকির, প্রদীপ, হীরা, মোঃ সাঈদ সেখসহ কয়েকজন। গাউস কাজীর ভাই বাবু কাজীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। প্রাণভরে অনেকে মুখ খোলার সাহস পায় না।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপি নেতা গাউস কাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন “স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”।