ঢাকার সাভারে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাকে সাভারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরে সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণতার’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রত্যাহার করে মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন-এর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব (রেজিস্ট্রেশন) হাসান মাহমুদুল ইসলাম এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আযিজুর রহমানের স্বাক্ষরে জারি করা এই আদেশে তাকে অবিলম্বে বর্তমান দায়িত্বভার হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংযুক্ত থাকাকালীন তার নিয়মিত বেতন-ভাতাও স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রশাসনিকভাবে এক ধরনের ‘প্রাথমিক বরখাস্ত’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ গ্রহণ, দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম এবং দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশসহ জাকিরের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি এসব অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাভারের সাংবাদিকদের হুমকি, হামলা ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রতিবাদে সাভারের সংবাদকর্মীরা থানায় কর্মবিরতি ও ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামসহ নজিরবিহীন আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ২০২৬ সালে কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় মামলা এবং তাৎক্ষণিক সংযুক্তির ঘটনাকে সাংবাদিকদের আন্দোলনের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী রোববার তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জাকিরের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।