নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল সরবরাহ এবং দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় তিন শিক্ষক ও এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় নকল সরবরাহের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে প্রশাসন।
রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
বহিষ্কৃতরা হলেন— মাগুড়া দোলাপাড়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান, বাহাগিলী খামাতপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাজেদুল হক, বাহাগিলী ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মামুনার রশিদ এবং পরীক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম।
আটক দুইজন হলেন— উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের শাকিল মিয়া (৩৪) এবং জলঢাকা উপজেলার কিশামত বটতলা কুটিপাড়া গ্রামের লিমন ইসলাম (২১)।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে জানালা দিয়ে এক পরীক্ষার্থীকে নকল সরবরাহ করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে দুইজনকে আটক করেন।
পরবর্তীতে তদন্তে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা তিন শিক্ষকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের জন্য পরীক্ষক ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নকলের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।”
ঘটনার পর কেন্দ্রজুড়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।