ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের তালতলা বাজারে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি দোকান, দুটি গোডাউন ও একাধিক বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এক মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (৪ মে) রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আহাম্মদ আলীর দুই ছেলের বসতঘর ও দোকানসহ একাধিক স্থাপনা আগুনে ভস্মীভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আহাম্মদ আলীর ছেলে মো. হারুন অর রশিদ ও মো. শফিকুল ইসলামের বাসা ও দোকান। এছাড়া শাহানাজ খাতুনের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আবুল হাসিমের ছেলে হারুনের ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আশপাশের দোকানপাট ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একসাথে থাকা বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শুরুতে স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় একটি বড় ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ততক্ষণে বহু মানুষের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বসতঘর পুরে ক্ষতিগ্রস্ত হারুন অর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গতকালও ভাবিনি আজ এভাবে নিঃস্ব হয়ে যাব। অন্যের কাপড় পরে বের হয়েছি। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই বের করতে পারিনি। এখন আমরা কোথায় দাঁড়াব?”
ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, “রাত ১টা ২৫ মিনিটে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দুর্গম এলাকা হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বড় একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এতে তিনটি দোকান ও সাত কক্ষের একটি বসতঘরসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি জানতে পেরে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আওতায় আনা হবে।”
বর্তমানে ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।