ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি একসময় শিক্ষার আলো ছড়ালেও গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয়করণ আর দুর্নীতির কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এক নাগারে পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন সাবেক সংসদ মামুনুর রশীদ কিরন, আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা দায়িত্বে থাকার পর বিদ্যালয়ে কোন বহুতল ভবন তৈরী হয়নি। সর্বশেষ সদস্য মামুনুর রশীদ মামুনের ভাই সিরাজুল ইসলাম স্বপন ও সাবেক বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেকের যোগসাজশে লুটপাট করা হয়েছে বিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ।
বুধবার (৫ মে) বিকেলে বিদ্যালয় কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটি সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন।
সাফল্যের শতবর্ষ পার করা বেগমগঞ্জের মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু সোনালী সেই অতীতে এখন দুর্নীতির কালো ছায়া। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে গঠিত পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল।
জহির উদ্দিন হারুন আরো বলেন "বিগত কমিটির সময় এক মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত! বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে এই টাকা তারা পকেটে ভরেছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের কোনো সঠিক হিসাব নেই।"
দুর্নীতি ও অনিমের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেক, নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে বিকেল ৩টায় বিদ্যালয়ে আসতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির পছন্দের ব্যক্তিদের সাথে আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত থাকতেন বলে জানানো হয়। ভর্তি বাণিজ্য এবং এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, এমনকি তার অদক্ষতায় শিক্ষকরা মাসের পর মাস বেতন বঞ্চিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে ক্ষমতার পালাবদলে এসেছে পরিবর্তন। বর্তমান পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিরেছে স্বচ্ছতা। যেখানে আগে বিদ্যুৎ বিল আসত লাখ টাকা, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজারে। নিয়মিত হচ্ছে ক্লাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিদ্যালয়টি। নিয়মতি বেতন পাচ্ছেন শিক্ষকরা। তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যামন্দির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।" এবং বিদ্যালয়ের বহুতল ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লা বুলু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ইনশাআল্লাহ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো পরিবর্তন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অভিবাবক সদস্য মোখলেছুর রহমান ছুট্টি, শিক্ষক প্রতিনিধি আবদুল আউয়াল, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দু
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
