ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
রাজশাহীতে সুনামধন্য একটি রিয়েল স্টেট কোম্পানীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মাজেদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে রাঙাপরি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর চেয়ারম্যান
লিখিত বক্তব্যে পুরো ঘটনার সত্যতা তুলে ধরেন। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড রাজশাহী শাখাতে বন্ধক থাকা ৯ কাঠা জমি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করার জন্য আব্দুল মাজেদ বিভিন্ন সময় রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও প্রপাগান্ডা ছড়াতে থাকেন। সর্বশেষ গত ৬ মে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে মাজেদ কিছু অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য তুলে ধরে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। তারই ভিত্তিতে গত ৭ মে রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর চেয়ারম্যান মাসুম সরকার ন্যাশনাল ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অভিযুক্ত মাজেদের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. মাসুম সরকার বলেন, গত বুধবার (৬ মে) আব্দুল মাজেদ তার পৈতৃক সম্পত্তি ও মার্কেট ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত হওয়ার পর জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুম সরকার আরো বলেন, নগরীর সুলতানাবাদে অবস্থিত আর,এস ৪৫৩৭ নম্বর দাগের সম্পত্তিটি প্রকাশ্য নিলামে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, রাজশাহী হতে ক্রয় করি। ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ গত ১২/০২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে আমার অনুকূলে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দখল বুঝিয়ে দেয়। আমি আমার নামে নাম খারিজ করে খাজনা প্রদান করে আসছি।
আব্দুল মাজেদ আর,এস খতিয়ানের মালিক হাজেরা খাতুন এর নিকট থেকে গত ০১/১১/১৯৭৫ইং তারিখের ৪৯৬৩২ নম্বর দলিলে ক্রয় করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে উক্ত সম্পত্তি ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ এর নিকট বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করায় ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ অর্থঋণ আদালতে ১৭/৯৩ নম্বর মামলা দায়ের করে। ১৯৯৪ সালে ব্যাংকের পক্ষে ডিক্রি হয়। এরপর ব্যাংক ১৮/৯৫ নম্বর জারী মামলা করে।
পরবর্তীতে মামলাটি অন্য আদালতে বদলী হলে নতুন নম্বর হয় ৪৫/০৪ টাকা জারী। উক্ত জারী মামলায় বিজ্ঞ আদালত গত ১৪/০৬/২০০৭ ইং তারিখে আব্দুল মাজেদের বন্ধকী সম্পত্তির মালিকানা ন্যাশনাল ব্যাংককে প্রদান করে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩(৭) সার্টিফিকেট দেন। উক্ত সার্টিফিকেট বলে ন্যাশনাল ব্যাংকের নামে নাম খারিজ হয়। ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ দখল প্রাপ্তির জন্য মাননীয় আদালতে আবেদন করলে আদালত দখলী পরোয়ানা ইস্যু করেন।
আব্দুল মাজেদ নিজে ও তার পরিবারের সদস্য দিয়ে দখলী কার্যক্রম বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্থ করতে ধারাবাহিকভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যায়। আব্দুল মাজেদ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩৫৮/২৩ নম্বর রীট দায়ের করেন। রীট মামলা দায়েরের সাথে সাথে নিম্ন আদালতের দখলী কার্যক্রম স্থগিত করলেও পূর্ণাঙ্গ শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্ট রীট মামলাটি খারিজের পাশাপাশি আব্দুল মাজেদকে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা জরিমানা করেন। আব্দুল মাজেদ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য আপীল বিভাগে ৪২৩/২০২৫ নম্বর লীভ টু আপীল দায়ের করলে সেটিও খারিজ হয়। অর্থঋণ আদালতের আদেশে নায়েব নাজির, পুলিশ স্কটসহ গিয়ে গত ১২/০১/২০২৫ ইং তারিখে এডভোকেট কমিশনার দ্বারা মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করেন। সেখানে অবস্থিত দোকানদারদের নায়েবে নাজীর মাননীয় আদালতের আদেশ জানালে তারা মালামাল সরিয়ে নেন। অতঃপর বিজ্ঞ আদালতের পেয়াদাগণ ভবনে অবস্থিত পরিত্যাক্ত মালামাল অপসারণ করে লাল নিশান উড়িয়ে ঢোল সহরত বাজিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের সরবরাহকৃত তালাবদ্ধ করে চাবিসহ সম্পত্তির দখল ব্যাংকের প্রতিনিধির কাছে বুঝিয়ে দেন। এরপর গত ১২/০২/২০২৫ ইং তারিখে ব্যাংক আমাকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়।
মাজেদ সকল প্রকার অপচেষ্টায় বিফল হয়ে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে যে সকল মামলার উল্লেখ করা হইয়াছে তার মধ্যে ১০৫৮৮/২৫ নম্বর মামলার কোন অস্তিত্ব নাই, ৪২৩/২৩ নম্বর মামলাটি এই সম্পত্তি সংক্রান্ত কোন মামলা নয়। ৯৩/২২ মামলায় ২১/১১/২০১৭ ইং তারিখ হতে সকল প্রকার কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মর্মে যে দাবী করা হয়ে তা মিথ্যা। উক্ত মামলায় আমি বা ন্যাশনাল ব্যাংক কোন পক্ষ নাই। ৯৩/২২ মামলায় কোন নিষেধাজ্ঞা বর্তমান নাই । ১৪/০৬/২০০৭ ইং তারিখে ৩৩ (৭) এর সার্টিফিকেট ইস্যুর সময় হতে আব্দুল মাজেদের মালিকানা স্বত্ব বিলুপ্ত হয়েছে এবং ১২/০১/২০২৫ ইং তারিখে দখল স্বত্ব বিলুপ্ত হয়েছে। আব্দুল মাজেদ সর্বোচ্চ স্তর মহামান্য আপীল বিভাগ পর্যন্ত এবিষয়ে মামলা করে হেরে গেছে। এর পরেও মালিক হিসাবে নিজেকে জাহির করা কি ধরণের প্রতারণা তা বিচারের ভার আপনাদের উপর অর্পন করলাম ।
সংবাদ সম্মেলনে আমার সহযোগি হিসাবে বিএনপির নেতা ও ষষ্ঠিতলার সিনিয়র পার্সন হারু ভাইয়ের সাথে উক্ত সম্পত্তির কোন সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততাও নাই।
তবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে জনাব মো. মাহবুবুর রহমান সোয়েল ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট ছিলেন। মামলা পরিচালনা ছাড়া তার ব্যক্তিগত কোন সম্পৃক্ততা নাই ।
আব্দুল মাজেদ একজন প্রতারক ও মামলাবাজ ব্যক্তি। তার প্রতারণার বিবরণের ফর্দ বেশ দীর্ঘ। যথাসময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল মাজেদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার জন্য আমি আমার আইনজীবির সাথে পরামর্শ করে আইনী ব্যবস্থা নেবো।
এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য মাজেদের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
