নারায়ণগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবল মহসীন খুন হয়েছে।ওই ঘটনায় অন্য তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কলাগাছিয়া এলাকা সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে গত ৭ মে দিবাগত মধ্য রাতে ওই ঘটনা ঘটে।
খুনের শিকার মহসীন(৪৫) খুলনার পাইকগাছা থানার গোয়ালপুর গ্রামের আব্দুল করিম সর্দারের ছেলে।তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর নৌ বিভাগের একজন কনস্টেবল (নম্বর-৮৯৪)।তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কলাগাছিয়া নৌ- ফাড়ীতে কর্মরত ছিলেন।
কলাগাছিয়া নৌ ফাড়ী পুলিশের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) সালেহ আহমদ পাঠান জানান, নৌ ফাড়ীর অধিনস্ত শীতলক্ষ্যা নদীতে বুধবার দিবাগত রাতে অন্যদের সাথে কনস্টেবল মহসীন প্রহরায় ছিলেন।কলাগাছিয়া এবং মুন্সীগঞ্জ সদর থানার চর মুক্তারপুর মধ্যবর্তী শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় রাত সাড়ে ১০ টায় পুলিশ দল বহনকারী ইন্জিন চালিত নৌকাকে অপর একটি বালুবাহী বাল্গহেট ধাক্কা দেয়। ফলে কনস্টেবল মহসীন ও অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত হয়। তন্মধ্যে মহসীন কীডনির স্হানে জখমপ্রাপ্ত হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।জেলা সদরের মন্ডলপাড়া এলাকার ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমন তার মৃত্যু ঘোঘনা করেন। পুলিশ পরিদর্শক সালেহ আহমদ পাঠান বলেন, ঘটনায় পুলিশের কোন অস্ত্র খোয়া যায় নি। এছাড়া বালুর বাল্কগেট ও চালকসহ স্টাফদের আটক করা যায়নি।
এদিকে হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভোরে নৌ পুলিশের সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন (বিপিএম),অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) আরিফ (পিপিএম) যান লাশ দেখেন। সদর মডেল থানার এসআই হাবীবুর রহমান ওই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মর্গে সকালেই ময়না তদন্তের পর লাশ গ্রামের বাড়ীতে নেয়া হয়।
অপর দিকে হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র বলেছে, পুলিশ কনস্টেবল মহসীনের কোমরের বা দিকের উপরিভাগে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত ছিলো।সারা শরীরে বালু মাখা ছিলো।অন্য কোথাও তেমন জখম ছিলো না। ফলে মৃত্যুটি দূর্ঘটনা নয় - খুন হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে প্রতীয়মান হয়। সূত্র বলেছে, মহসীনের লাশ বুধনার রাত দেড়টায় এসআই মকবুল ও অন্যরা হাসপাতালে নেয়।কিন্তু হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে এসআই মকবুল এবং কনস্টেবল আরাফাত, কনস্টেবল সুজন সরকার পুলিশ কেইস সীল দিয়ে টিকিট নেন।