চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর শহরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এতে করে উদ্বেগজনক হারে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে যুবসমাজ, জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়া এলাকায় মো. বাচ্চু হোসেনের ছেলে মো. বাপ্পি হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাপ্পি ও তার ভাই মো. অন্তু হোসেন সরাসরি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজ বাসা থেকেই এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে এ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বাপ্পি। তাকে প্রায়ই দামী মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখা যায়। এলাকাবাসী আরও জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাপ্পির বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন মাদকসেবীর আনাগোনা বেড়ে যায়। সূত্রের দাবি, পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলা থেকে ইয়াবার চালান এনে তা জীবননগরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়াতে বাড়ির ভেতর ও বাইরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পুরো যুবসমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে মো. বাপ্পি হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদকের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি “মোটরসাইকেলে আছি” বলে কল কেটে দেন।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স । তথ্য পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”