ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতির নানা স্মৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভালুকা উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মেজবাহ উদ্দিন মাসুদ।
স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই তার পরিবারের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা। তার বাবা গ্রামের গ্রাম সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই সূত্র ধরেই ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
শেখ মেজবাহ উদ্দিন মাসুদ লেখেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ভালুকায় কনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে তিনিও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা, পোস্টারিং, ব্যানার টানানো, স্লোগান এবং জারি-সারি গানের মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ধলিয়া বহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ভালুকা ডিগ্রি কলেজে মানবিক শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
১৯৯৫ সালের সার সংকট ও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সৃষ্ট অস্থিরতার সময় তিনি সম্মুখসারিতে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এর জেরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের বাধার মুখে কলেজে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা ঘোষণা ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের বিরোধিতা করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ৬২ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রাজনৈতিক ‘মিথ্যা মামলা’গুলোর একটি।
সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় সাবেক এমপি মরহুম আমানউল্লাহ চৌধুরী মামলাটি দেখভাল করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আদালতে বিএনপির একাধিক সাবেক এমপি ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি ধীতপুর ছাত্রদলের সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কৃষকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের তথ্য তুলে ধরেন। সর্বশেষ ভালুকা উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান।
শেখ মেজবাহ উদ্দিন মাসুদ বলেন, ৩৬ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে যাচ্ছি। কখনো চাকরি করিনি, বিদেশেও যাইনি। দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।