× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জমি বিক্রি করে উল্টো মামলা: কুষ্টিয়ার আলামপুর বাজারপাড়ার মজ্জত আলীর প্রতারণা

ডেস্ক রিপোর্ট।

০৯ মে ২০২৬, ১৯:৩২ পিএম । আপডেটঃ ০৯ মে ২০২৬, ১৯:৩২ পিএম

ছবি: ফাইল।

জমি বিক্রি, টাকা গ্রহণ এবং রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক মাস পর একই জমি নিয়ে আদালতে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামের মরজেত আলী ওরফে মজ্জত আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর মৌজার আরএস ৪৯৭ নং খতিয়ানের ৩১৬১ নং দাগে মোট ৬৬ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন ছফি উল্লাহ মিয়া। ১৯৮৯ সালের ২০ মার্চ ২৫২৩ নং খোশকবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি জমিটি মহর আলী মন্ডল ও মজ্জত আলী মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তারা জমিটি নিজেদের নামে খারিজ করেন।

এরপর ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মহর আলী মন্ডল তার অংশের ৩৩ শতক জমি ভাই মজ্জত আলী মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। তবে মজ্জত আলী নিজের নামে রেজিস্ট্রি না করে স্ত্রী মাছিরন নেছার নামে জমিটি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে মাছিরন নেছার মৃত্যু হলে জমিটির মালিকানা পান তার স্বামী মজ্জত আলী ও একমাত্র ছেলে সরোয়ার হোসেন। পরে আর্থিক সংকট ও ব্যাংক ঋণের চাপে পড়ে সরোয়ার হোসেন তার অংশের ২৪.৭৫ শতক জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

জানা যায়, জমিটির পূর্ব মালিক পরিবারের সদস্য ও মহর আলী মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম তারেক জমিটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তাদের বড় চাচা মরহুম জামাল উদ্দিন মন্ডলের ছোট ছেলে আকরাম হোসেন। আকরাম হোসেন সম্পর্কে উভয়ের চাচাত ভাই। 

অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির বায়নামার প্রথম ২০ হাজার টাকা নিজ হাতে গ্রহণ করেন মজ্জত আলী মন্ডল। পরে আরও এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন সরোয়ার হোসেন, যা দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ঋণ পরিশোধ করা হয়। এ বিষয়ে ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঋণ পরিশোধের ১৫ দিন পর ব্যাংক থেকে দলিল ছাড়িয়ে এনে ২০২৪ সালের ১৪ মে কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জহুরুল ইসলাম তারেকের স্ত্রীর নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন সরোয়ার হোসেন। রেজিস্ট্রির সময় আলামপুর বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম মওলা ও আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে।

তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর। জমি বিক্রির কয়েক মাস পর কুষ্টিয়ার সিনিয়র জজ আদালতে প্রি-এমশন মিস মামলা দায়ের করেন মজ্জত আলী মন্ডল। মামলার নম্বর ৬৮/২৪।

এ বিষয়ে জমির ক্রেতা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সিনিয়র সদস্য ও জাতীয় সাপ্তাহিক কনজুমার ভয়েজ-এর সম্পাদক এবং বাংলা টিভি চ্যানেল বিএমএফ টেলিভিশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুরুল ইসলাম তারেক বলেন,

“জমি কেনার আগে আমার চাচা মজ্জত আলীর সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়। তিনিই প্রথম বায়নার টাকা হাতে নিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ‘জমি তো আপন লোকের কাছেই থাকছে।’ অথচ এখন সেই তিনিই আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার চাচাত ভাই সরোয়ার হোসেন ব্যাংক ঋণের চাপে ছিলেন। তাকে মামলা থেকে বাঁচাতে এবং আর্থিক সংকট কাটাতে আমি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমার এফডিআর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জমিটি কিনেছি। এখন জমি কিনেও মামলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সরোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে মামলাকারী মজ্জত আলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, জমি বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার পর আবার মামলা করা অনৈতিক ও প্রতারণামূলক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.