ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত আলহাজ্ব কাজী গোলাম হোসেন সড়ক চালু হলে মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
এতে শুধু মানিকগঞ্জ নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখনো যান চলাচল শুরু হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে যমুনা সেতুর দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ ২০২২ সালে শেষ হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ আটকে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না।
সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্যের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবৈধ ড্রেজিং ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন মণ্ডল বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের চার বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো সমাধান হয়নি।”
সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, সড়কটি চালু হলে মানিকগঞ্জ থেকে যমুনা সেতুর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে এলজিইডির মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বালু ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, “জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”