চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১০ মে) বিকাল ৫টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৪০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
এর আগে সকালে ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে গুলিয়াখালী বীচ এলাকা থেকে অবৈধ দোকান সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান অপসারণ না করায় বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ জন পর্যটকসহ মোট ১২ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীরসহ শতাধিক পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালী বীচ সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে গড়ে ওঠা দোকানগুলো অবৈধ। সরকারি জায়গা উদ্ধারের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি মহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কালাম ও সুমন নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা দাবি করেছেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা সরকারের কাছে বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।