খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবির আড়ালে প্রশাসন, সাংবাদিক ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার তবলছড়ি চত্বরে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) মাটিরাঙা উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই ঘটনা ঘটে।
বির্তকিত এই বক্তব্য প্রদানকারী হাসানুল হক কুমুদিনী ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিনিধি এবং ফারিয়ার সদস্য। তিনি মাটিরাঙা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ৪ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক ‘দালালবিরোধী’ অভিযানে বেশ কয়েকজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাটিরাঙায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য প্রদানকালে হাসানুল হক সাংবাদিকদের 'দালাল' আখ্যা দিয়ে বলেন, "সাংবাদিকরা বাংলাদেশের নিকৃষ্ট জাতি, তারা দালালি করে খায়।" এ সময় তিনি আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা যদি দালাল হয়, তবে ইউএনও, ওসি এবং সেনাবাহিনীসহ বাংলাদেশের সকল পেশাজীবীই দালাল।
হাসানুল হকের এমন অপেশাদার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মাটিরাঙা প্রেসক্লাবের সভাপতি জসিম উদ্দিন জয়নাল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "হাসানুল হক বাংলাদেশের সাংবাদিক, প্রশাসন, পুলিশ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধৃষ্টতার জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বিষয়টি নিয়ে মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রতীতি পিয়া জানান, তিনি কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে এবং জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।