× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত: দখল, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক রত্ন

এম জামশেদ আলম, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

১১ মে ২০২৬, ১৭:২৪ পিএম

সীতাকুণ্ডের পর্যটন খাতের অন্যতম সম্ভাবনাময় গন্তব্য গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত আজ দখল, অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত স্থাপনার চাপে তার স্বকীয় সৌন্দর্য হারানোর দ্বারপ্রান্তে। কেওড়া বনের বুক চিরে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখন এই সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার পরও বাস্তবে গুলিয়াখালী পরিণত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক জোনে।

সরকার ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতকে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫৯.১০ একর এলাকাকে পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, এ এলাকায় যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রশাসনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেওড়া বনের ভেতর গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান, রেস্টুরেন্ট ও অস্থায়ী স্থাপনা, যা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে অপরিকল্পিত দখল অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।

দেশের অন্যতম সংবেদনশীল পর্যটন এলাকা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেখানে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, সেখানে গুলিয়াখালীতে দীর্ঘদিন ধরে শিথিলতা ও অবহেলার চিত্রই বেশি দৃশ্যমান। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের চোখে প্রথমেই পড়ে কেওড়া বনের ভেতরের এসব অবৈধ স্থাপনা, যা সৈকতের নান্দনিকতা নষ্ট করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কেবল উচ্ছেদ অভিযানই যথেষ্ট নয়। বরং এসব অবৈধ দখলদার ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় কিছুদিন পর আবারও একইভাবে দখল ও স্থাপনা গড়ে ওঠার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

অন্যদিকে, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও গুলিয়াখালীতে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। পর্যটকদের জন্য নির্মিত ওয়াশরুমগুলো প্রায়ই বন্ধ থাকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে, পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় বিভিন্ন সময় স্থাপনা ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পরিবর্তে পিছিয়ে পড়ছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা পাহাড়, ঝরনা, বন ও সমুদ্রের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত একটি অনন্য পর্যটন জনপদ। তাই গুলিয়াখালীকে রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; এটি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, কঠোর নজরদারি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে গুলিয়াখালীকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। এখন সময় এসেছে শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই উপকূলীয় সৌন্দর্যকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করার।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.