পাবনার ঈশ্বরদীতে মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই সুস্থ বোধ করায় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি নিয়ে গেছেন।
মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) বাসনা রানী বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ ৬ষ্ঠ শ্রেণির বালিকা শাখার দুজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এরপর দেখি অনেকর মাথা ঘুরানি, মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব। একে একে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এরপর আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। রুমে একটি প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে এটা উকুন মারা ওষুধ। হয়ত এটা থেকেও হতে পারে। অনেকই সুস্থ হয়ে গেছে। তবে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের কর্মকর্তা ডা: কাবেরী সাহা বলেন, হঠাৎ করেই হাসপাতালে স্কুলড্রেস পড়া অনেকগুলো শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে। সবাইকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ২ টার দিকে ক্লাস রুমে হঠাৎ দু'একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে অর্ধশতাধিকের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন অনেকেই সুস্থ হয়েছে। এসব কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রুমের মধ্যে একটি প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া গেছে। ওই বোতল থেকে নাকি অন্য কিছু থেকে অসুস্থ হয়েছে এখনি বলা যাচ্ছে না। আমরা বোতলটি ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির বালিকা শাখায় দুপুরের টিফিন শেষ করে দুইটার দিকে ক্লাস শুরু হলে রুমের ভিতরে পাওয়া একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে পাওয়া গন্ধে প্রথমে দুজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এছাড়াও আতঙ্কে ৭ম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়।
শ্রেণীকক্ষে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতলটির উপরে লেখা লেভেল থেকে জানা যায় সেটি অ্যাভালন নামক একটি উকুন নাশক স্প্রে। তবে কিভাবে সেটি শ্রেণী কক্ষে পৌছাল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।