পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীরা বসবাস করে আসছে সেসব জাতিসত্তা জুম্মদের বিভক্তি করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একদল শাসক গোষ্ঠিরা। যার কারণে পাহাড়ে সংঘাত, জাতিগত দ্বন্দ, বিভেদসহ নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর মূল কারণ- এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি বিধায় পাহাড়ের এই দুর্দশা চিত্র।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে শহরে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি থেকে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির সমিতির সহ- সাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলি।
প্রধান অতিথির উ উইন মং জলি বলেন, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু দু:খের বিষয় হল চুক্তির দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও তা পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারনে জুম্ম জাতি গোষ্ঠী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। যার ফলে জুম্মজাতি গোষ্ঠীরা নিজ ভূমিতে আজ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারতেছেনা। প্রতি এলাকায় জুম্মদের নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে একদল শাসক গোষ্ঠিরা।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আইন প্রনয়ণ করা ১৯০০ রেগুলেশন আছে বলে কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারছি। তবুও এর বাইরে গিয়ে আমাদের জুম্ম আদিবাসীদের নানা রকমের হয়রানী আর হেয়পন্ন করা হয়। জুম্মদের বিভিন্ন রকমে তকমা দেয়া হয়। প্রতিটি স্থানে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় যাতে করে আমরা আরো দুর্বল হয়ে পড়ি।
জলিমং আরো বলেন, তথাকথিত উন্নয়ন নামে পাহাড় কেটে ধ্বস করা হচ্ছে, বাঁশ, কাঠ,গাছ বনাঞ্চল উজার হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এই পাহাড় রইবে বলে আমার আর মনে হয় নাহ। আমি মনে করি ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মে শিক্ষিত ছাত্রসমাজ সেটি হতে দিবে নাহ। কারণ তারা জানে বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে। তাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলে জুম্ম জনগনের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করার আহবান জানান এই নেতা।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির সমিতি (জেএসএস) এর বান্দরবান জেলার সহ সাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলি। আলোচনা শেষে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
সম্মেলনে পিসিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জগদীশ চাকমা, হিলস উমেনস ফেডারেশন এর সভাপতি উলিসিং মারমা, বান্দরবান মহিলা সমিতির সহসভাপতি রেমএংময় বমসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের পিসিবির ২ শতাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।