× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর নিজ ওয়ার্ডে মৌলভীবাজারের হামজা চৌধুরীর ভোটে বাজিমাত

মো: আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

১৭ মে ২০২৬, ১৩:২৪ পিএম । আপডেটঃ ১৭ মে ২০২৬, ১৩:৫৪ পিএম

চলতি মাসের ৭ মে অনুষ্ঠিত বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ভোট যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের একের পর জয়ের খবর আসছে। প্রথমে ৮ জনের খবর আসলেও পরবর্তীতে জয়ের এ তালিকা আরও দীর্ঘ হয়। ওই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন মৌলভীবাজারের ২৪ বছর বয়সী তরুণ হামজা চৌধুরী। প্রথমবারের মতো ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে এ তরুণ রীতিমতো বাজিমাত করেছেন। কারণ তিনি যে ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেখানে টানা ২৪ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপাত্য রয়েছে বৃটেনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির। শুধু তাই নয়, ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেকারণে বাংলাদেশী তরুণ হামজা টৌধুরী জয় কে অবিস্বরণী ও ঐতিহাসিক হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

এবারের বৃটেনের কাউন্সিলর নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ফলাফলের একটি হলো হোলবর্ন অ্যান্ড কোভেন্ট গার্ডেন ওয়ার্ডে, যেখানে গ্রিন পার্টির প্রার্থী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে হামজা চৌধুরী হোলবর্ন অ্যান্ড কোভেন্ট গার্ডেন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কাউন্সিলর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ওয়ার্ডে গ্রিন পার্টি তিনটি আসনই জয় ছিনিয়ে নেয়। হামজা চৌধুরী স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠক জিম মোনাহান ও জেমস হোয়াইটের সঙ্গে প্রচারণা চালান। তাদের প্রচারণার মূল বিষয় ছিল স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব, আবাসন সমস্যা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিজ কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে গাজা ইস্যু, অভিবাসন নীতি এবং লেবার সরকারের প্রতি অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির প্রতি হতাশা থেকে অনেক ভোটার গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়েন। স্থানীয়ভাবে সক্রিয় এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে হামজা চৌধুরী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পান এবং ওয়ার্ডের সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেন। তার এই জয়কে ক্যামডেনে গ্রিন পার্টির উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, হামজা চৌধুরীর পেশা বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়া তার দেশের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৮ নং কনকপুর ইউনিয়নের কনকপুর গ্রামে। তিনি কনকপুর গ্রামের সোহেল আহমেদের ছেলে। হামজা চৌধুরীর ঐতিহাসিক এ জয়ে বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি তাঁর পরিবার, স্বজন, নিজ গ্রাম ও মৌলভীবাজার শহরের নানা শ্রেনী পেশার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত।   

এদিকে বৃটেনের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সে দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যে সকল প্রবাসী, তাদের বেশিরভাগই মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দারা। বিদেশের মাটিতে তাদের একের পর এক সাফল্যে সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও বাড়াচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উচ্চ শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনের তাগিদে তাদের পূর্বপুরুষ ও তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, পরিশ্রম আর উত্তম ব্যবহার দিয়ে জয় করেছেন স্থানীয়দের মন। অনেকে কাজের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতেও।

লন্ডনের একটি বিশ^বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সাবেক ভিপি বাংলাদেশী তরুণ ব্যারিস্টার সৈয়দ রুম্মান বলেন, বাংলাদেশী বৃটিশ বংশোদ্ভূত হিসেবে হামজা চৌধুরীই প্রথম হোলর্বন থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি পুরো বাংলাদেশী কমিউনিটিকে অণূপ্রানিত করেছে। তিনি বলেন, তুলনামূলক হিসেবে করলে বাংলাদেশী অধ্যুসিক এলাকা হিসেবে ইস্টলন্ডন পরিচিতি পেলেও হোলবর্ন বাংলাদেশী অধ্যুসিত এলাকা নয়। সেখানে লেবার পার্টি অধ্যুসিত এলাকা হওয়ার পরেও গ্রীণ পার্টি থেকে বাংলাদেশী কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ঐতিহাসিক। এ বিজয় আগামীতে যেসকল বাংলাদেশী নির্বাচনে অংশ নিবেন তাদেরকে নি:সন্দেহে অণুপ্রানিত করবে। আগামীতে পুরো বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তরুণ এই আইনজীবী।  

ভোটে অবিস্বরণীয় জয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হামজা চৌধুরী বলেন, টানা ২৪ বছর এই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপাত্য ছিল লেবার পার্টির। আমি যে ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এটা বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর ওয়ার্ড। নির্বাচনের আগে আমি আর আমার ভাই প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছি। মানুষের ব্যাপক সারা আর অভাবনীয় ভালবাসা পেয়েছি। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। ভোটাররা আমাকে বিশ্বাস করেছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন এই এলাকার জন্য আমি পরিবর্তন করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ আমি মানুষের জন্য কাজ করব। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.