পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠে অস্থায়ী ভাবে বসানো হয় গরুর হাট। আর এই গরুর হাট বসানোয় শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কলেজ মাঠে কয়েকদিনব্যাপী পশুর হাট বসার কারণে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া, পশুর বর্জ্যে পুরো মাঠ একাকার হওয়া ও দীর্ঘ সময় ধরে দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে কয়েকদিন ধরে কলেজ মাঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় কাদা, ময়লা ও দুর্গন্ধ। পশুর বর্জ্য, পলিথিন ও খাবারের উচ্ছিষ্টে মাঠের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। হাট শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় থাকে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কলেজ মাঠটি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু গরুর হাট বসানোর কারণে মাঠের ঘাস নষ্ট হয়ে যায় এবং দুর্গন্ধের কারণে ক্লাসে মনোযোগ ব্যাহত হয়। অনেক সময় হাটের যানজট ও অতিরিক্ত মানুষের সমাগমে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো উচিত নয়। এতে শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। হাট শেষে মাঠ পরিষ্কার করা হয় না, ঈদের পর ক্লাস খুললে গোবরের গন্ধেক্লাস করতে পারি না। ফলে আমরা খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হই।”
এ বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের লোকজনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিকল্প স্থানে গরুর হাটের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও কমবে।
আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এহসানুল হক বলেন, জনস্বার্থে কলেজের মাঠটি জনগণের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সুযোগ দেওয়া হয়। আমাদের মাঠটি গরুর হাট নয়, স্থায়ী গরুর হাটের জায়গা স্বল্পতায় আমাদের মাঠটি অস্থায়ী ভাবে ব্যবহার করা হয়। আমরা বিগত বছরেও মাঠ ব্যবহারে বাঁধা দিয়েছি। এ বছরেও মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি নয়।