নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার আলোচিত শিশু অপহরণ মামলার তিন বছর বয়সী ভিকটিম উম্মে হানিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় অপহরণের মূল হোতা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী এবং র্যাব-০৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জের যৌথ অভিযানে নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ভোলাউক এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন শরীফা বেগম (৩৫) ও তার স্বামী মো. নিজাম উদ্দিন (৪০)।
র্যাব জানায়, শরীফা বেগম পূর্বে শিশুটির মায়ের সহকর্মী ছিলেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি নিয়মিত তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে সকালে শিবপুর উপজেলার ধানুয়া এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় এসে শিশু উম্মে হানিকে আদর করার ছলে কোলে নেন শরীফা বেগম। পরে শিশুটিকে বাইরে ঘুরিয়ে আনার কথা বলে নিয়ে যান। এসময় শিশুটির মা রাতের ডিউটি শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, তার শিশু কন্যা ও শরীফা বেগম—দুজনই নিখোঁজ।
পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে শিশুটির মা শিবপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২৫) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাসিরনগর থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে অপহরণের মূল হোতা শরীফা বেগম ও তার স্বামী নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ক্যাম্প কমান্ডার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “অপহরণসহ যেকোনো অপরাধ দমনে র্যাব সর্বদা তৎপর রয়েছে। শিশু উম্মে হানিকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”