× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঈদ উপলক্ষে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে লোহাগড়ার কামারপট্টি, টুংটাং শব্দে মুখর চারপাশ

মোঃ আলমগীর হোসেন , লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :

২১ মে ২০২৬, ১৫:১৪ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়ার কামারপট্টিগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন কামাররা। লোহা কাটা ও আগুনে পিটিয়ে সরঞ্জাম তৈরির ঝনঝনানি আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

 বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার বিভিন্ন কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে আগুনের ফুলকি ছুটিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি-চাপাতি তৈরি ও পুরোনো সরঞ্জাম ধার দেওয়ার কাজ। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় দম ফেলারও সময় পাচ্ছেন না তারা।

নতুন ছুরি ও চাপাতি কিনতে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। পাশাপাশি পুরোনো ছুরি-চাপাতি ধার করাতেও ভিড় করছেন অনেকে। পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দা, বঁটি, চাপাতি ও ছুরি সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানগুলোতে।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওজন ও মানভেদে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে এক হাজার টাকায়। ছোট-বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে। আর গরু জবাইয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি লম্বা ছুরির দাম পড়ছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।

ছুরি-চাপাতি কিনতে আসা সাহেব আলী বলেন, “এ বছর জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেশি। তবে অনলাইনের বিদেশি পণ্যের চেয়ে এখানকার লোহার তৈরি সরঞ্জাম অনেক বেশি টেকসই। তাই কামারপট্টি থেকেই কিনতে এসেছি।”

আরেক ক্রেতা লিটন রেজা বলেন, “কোরবানির জন্য ভালো চাপাতি দরকার। এখানকার তৈরি চাপাতিগুলো মজবুত এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।”

পুরোনো ছুরি ধার দিতে আসা এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, “আগেই ছুরি বানানো ছিল। এখন ধার দিলেই কাজ হবে। এখানকার কারিগররা খুব ভালো কাজ করেন।”

কথা হয় স্থানীয় কারিগর শ্যামলের সঙ্গে। তিনি বলেন, “কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে মাদরাসাগুলো থেকে বেশি অর্ডার আসে। অনেকে পুরোনো যন্ত্রপাতিও ধার দিতে নিয়ে আসেন।”

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করি দাম সহনীয় রাখতে। কিন্তু কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি।”

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার বলেন, লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন কামারপট্টিতে প্রায় ২০ টি পরিবারকামারপট্টিতে প্রায় ২০ টি পরিবার লৌহজাত সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে আসছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে তাদের কাজের পরিধি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.