× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মহেশখালীতে ম্যাক্স কোম্পানির দখল-দারিত্ব, ভরাটের মাধ্যমে ‘বিরাট সাম্রাজ্য’ ফতুর হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি।

২১ মে ২০২৬, ১৫:২৫ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

দেশের এক মাত্র পাহাড়ী দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার স্থলে প্রথে প্রবেশদ্বার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী প্রাকৃতিকভাবে যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা একটি টেকসই কৃষি–মৎস্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর হুমকি নেমে এসেছে। এ অঞ্চলে গ্রীষ্ম মৌসুমে লবণ উৎপাদন এবং বর্ষা মৌসুমে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ চাষ হয়। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলা এই দ্বিমুখী চাষাবাদ স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন শিল্পপতি ও বড় ব্যবসায়ীসহ আওয়ামীলীগের লেবাসে দালাল গোষ্ঠীর কুনজরে পড়েছে এই জমিগুলোর ওপর এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষি ও জমির মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এদিকে ম্যাক্ম কোম্পানির দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা আল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২১ মে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চালিয়াতলীর বাসিন্দা সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাহাব উদ্দিন। 

 এদিকে দ্বীপের উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ থেকে যতদূর চোখ যায় তার পুরোটাই এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল ইসলাম মাসুদের দখল করা জমি। তিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ক্যাশিয়ার হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে এস আলমের পর এবার ম্যাক্ম কোম্পানী দখল দারিত্বে নেমেছে। এ গ্রুফ শুরুতে কিছু জমি বেশি দামে কিনে কাজের জিনিস পত্র রাখতে শত শত একর জমি দখল করে নেন। বিশেষ করে জমি-পানি চলাচলের রাস্তা ভরাটের মাধ্যমে জমি দখল করে ‘বিরাট সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলা হয়েছে। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের একদল দালাল সিন্ডিকেট ব্যবসার নামে বর্তমানে কম দামে শত শত একর জমি কিনে নিচ্ছেন। পরে তারা উচ্চ মূল্য জমি গুলো ম্যাক্স কোম্পানিকে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে দালাল চক্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা। এর ফলে স্থানীয় লবণচাষি ও মৎস্যচাষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জমিতে স্বাভাবিক পানি প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে বর্ষায় মাছ চাষ এবং শুকনো মৌসুমে লবণ উৎপাদন—উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মী ওচসমান জাহাঙ্গীর এস আলমের পর এবার মহেশখালীতে ম্যাক্স কোম্পানির দখলদারিত্ব এখনো বহাল, ফতুর হচ্ছে জমির মালিক-চাষি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এসব জায়গায় বর্ষা মৌসুমে মাছ আর শুষ্ক মৌসুমে লবণ ও চিংড়ি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা ও চালিয়াতলী গ্রামের মানুষ। যার পুরোটাই এখন লুটেরা এই শিল্পগ্রুপের দখলে চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

স্থানীয় জমির মালিক নাছির উদ্দীন জানিয়েছেন, ম্যাক্স কোম্পানির উত্তর নলবিলার নতুন ঘোনায় জায়গা ক্রয় করার নামে দীর্ঘদিনের মহেশখালী চ্যানেল থেকে চিংড়ী ও লবণ চাষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে - অসহায় হয়ে পড়েছে চাষীরা। এসব দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ডে বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবসার নামে চোরাইকৃত মালামাল পাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর এখনো বহাল তবিয়তে থেকে ম্যাক্ম কোম্পানিকে  কম দামে জমি কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ টাকার উৎসবের সন্ধানে দুনীতি কমিশন দুদক, কোষ্টগার্ডসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারিও কামনা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে শুকনো মাঠে নামতে পারছেন না লবণচাষীরা। পানি প্রবেশের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় লবণ মাঠ তৈরির প্রথম ধাপই শুরু করা যাচ্ছে না। উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা মৌজার একটি মৎস্য প্রকল্পে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ফলে ওই এলাকার আশপাশের প্রজেক্টের এলাকাতেও একই পরিস্থিতির বিরাজ করছে।

জানাগেছে, ম্যাক্স কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্টান এসব জমি ক্রয় করে ঘেরের মাধ্যমে পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে শুধু স্থানীয় চাষীদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েনি, বরং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লবণ–মৎস্যভিত্তিক এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাটি ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে দূ্র্নীতি দমন কমিশন দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কোষ্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আওয়ামীলীগের লেবাসে কোটি কোটি  অবৈধ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন টাকার উৎস খুুঁজতে অভিযোগ দায়ের করেছে ভোক্তভোগিরা এমন একটি অভিযোগের কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অনেকে মনে করছেন অভিযোগের ভিত্তিতে দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে নজরদারীর পাশাপাশি ব্যবস্থাও নিতে পারে এসব সংস্থা। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই অভ্যুথানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে ম্যাক্স কোম্পানির এসব জমি চোখ পড়ে প্রত্যন্ত এই এলাকার সাগরপাড়ের বিশাল বেলাভূমির ওপর। শুরুতে বেলাভূমি দখল না করে কৌশলে বেড়িবাঁধের পাড়ের মৎস্য ও লবণ চাষের জমি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে কিনতে শুরু করেন তারা। আর এ কাজে ব্যবহার করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন দালাল সিন্ডিকেটকে। এভাবে বেশি দাম দিয়ে শত শত একরের বেশি জমি কিনে নেয় ম্যাক্ম কোম্পানি।

 এক পর্যায়ে মহেশখালী ব্রীজের পাশে সেখানে গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী অফিসও। এরপর থেকেই ম্যাক্ম কোম্পানির আসল রূপ দেখতে পায় গ্রামবাসী। কারণ, তখন থেকেই নামমাত্র টাকা দিয়ে বা টাকা নিতে রাজি না হলে সন্ত্রাসী দিয়ে অফিসে ধরে নিয়ে জোর করে জমি দখল শুরু করে ম্যাক্ম কোম্পানীর ভাড়াটে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

মহেশখালী থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, কেউ যদি অবৈধভাবে জমি দখল-বেদখলকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.