× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কুড়িগ্রাম হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মচারীর ‘অদৃশ্য শক্তির’ দাপট

২৩ মে ২০২৬, ১১:৫২ এএম

দুর্নীতি, অনিয়ম আর ক্ষমতার দাপটে আলোচিত কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলীকে বদলি করেও শেষ পর্যন্ত থামানো গেল না। নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই কর্মচারীকে চার মাস আগেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অথচ রহস্যজনকভাবে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আবারও পূর্বের পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে কুড়িগ্রামে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী সরকারের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলী। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

এরই ধারাবাহিকতায় দু’দফা তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক  চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ইউনুস আলীকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে সরিয়ে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। যার স্মারক নং-পরিঃ(স্বাস্থ্য/রংবি/প্রশাঃ২০২৬/১৩৭/১১। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকার একটি অসাধু সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করেই পুনরায় ১৮ মে স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/প্রধান সহকারী-৪০/২৬/১৮৬৮/১(১৫) স্মারকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে একই পদে যোগদান করেন। 

স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনা প্রমাণ করে স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে এখনো দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বদলির পরও ইউনুস আলীর প্রভাব এতটুকু কমেনি; বরং নতুন করে ফিরে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সাংবাদিকদের জানান, দুর্নীতির অভিযোগেই ইউনুস আলীকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আবারও তিনি সদর হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন স্টাফকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এক কর্মকর্তা বলেন, “উনি ফিরে এসেই বলছেন ‘দেখি আপনারা কিভাবে চাকরি করেন।’ আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সামিউল হক নান্টু সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রভাবশালী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অভিযোগ ওঠার পর সাময়িক বদলি আর পরে পুনর্বহালের সংস্কৃতি দুর্নীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগে জর্জরিত একজন কর্মকর্তার এত দ্রুত একই কর্মস্থলে পুনর্বহাল হওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং এটি দুর্নীতিবাজ চক্রের শক্ত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। রোগী সাধারণ ও কুড়িগ্রাম হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।


এ বিষয়ে জানতে মো. ইউনুস আলীকে একাধিকবার মুঠো ফোনে কথা কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ সাংবাদিককে  বলেন, “কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিবাজ তা আপনারাই ভালো জানেন। সুতরাং আমার উর্দ্ধতন যা আদেশ করেন আমি তা করতে বাধ্য। যেকারণে ওই কর্মচারীর পুনরায় যোগদান পত্র গ্রহণ করেছি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.