মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চা বাগানে পাতা তোলার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে পাঁচজন নারী চা শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত শ্রমিকরা হলেন, পরি বুনার্জি (৪৫), আলমিনা মুন্ডা (৫০), প্রতিমা পাল (৪৮), মুক্তা বাউরী (৩২) ও রুজিনা নাহার (৪২)। তারা সবাই কুরমা চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক।
বাগান সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় ওই নারী শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলনের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় এবং সেই সাথে আকস্মিক বজ্রপাত হলে মাঠে থাকা পাঁচ শ্রমিকই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই মাঠে থাকা অন্য সহকর্মী ও বাগান কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহতদের উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বজ্রপাতে আহত পাঁচ নারী শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে রুজিনা নাহারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের এখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
কুরমা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাসী মুঠোফোনে জানান, আহতদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে। এদিকে এই আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় কুরমা চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ ও টিলাভিত্তিক চা বাগানে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চা বাগানগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং আগাম আবহাওয়া সতর্কবার্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।