থানচিতে পাঁচ বছর বয়সী ত্রিপুরা এক শিশুকে ধর্ষনের প্রতিবাদে সমাবেশে ছাত্র সমাজ বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে একের পর এক পাহাডের মা-বোন ধর্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সুষ্ঠু বিচার পায়নি। গতকালকেও থানচিতে ৫ বছর বয়সী এক ত্রিপুরা বোন ধর্ষিত হয়েছে। বিচারে দাবি চাওয়াতেই ধর্ষনের পক্ষে নিয়ে ছাত্রদের দিকে বিজিবি সদস্যরা বন্দুকের নল ঠেকিয়েছে। অথচ দেশের এমন একটা নিয়ম হয়েছে সমতলে বিচার কিংবা দাবি-দাওয়া চাইলে দেশপ্রেমী আর পাহাড়ে ধর্ষকের কিংবা কোন কিছু দাবি চাইলে বিচ্ছিন্নবাদী, রাষ্ট্রবিরোধী নয় দেশদ্রোহী তকমা দেয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকালে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও ওমেন্স ফেডারেশন আয়োজনে এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে এসব মন্তব্যে করেন সমাবেশকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাহাড় আর সমতল এক নয়। পাহাড়কে যতটা শান্ত ভাবছেন তততা শান্ত নয়। যেভাবে একের পর পাহাড়কে উত্তপ্ত সৃষ্টি করছে আগামীতে পাহাড় অশান্ত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তপ্ত হবে। তাই সবাই মিলে একে অপরকে সহযোগীতা করে পাহাড়কে শান্ত রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরো বলেন, ধর্ষকের কোন জাত নাই,ধর্ম নাই, সে একজন অপরাধী। এবার কোনখানে ধর্ষন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাছে নয় জনগনের গণধোলাই মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড শাস্তি হবে। তাই দেশের ধর্ষণকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করতে হবে। তাই পাহাড় ও সমতলের মা-বোনদের নিরাপত্তার প্রদানের পাশাপাশি ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে স্থানীয় রাজার মাঠ থেকে বের হয় বিক্ষোভ মিছিল। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে আদিবাসী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক উছো মং মারমা, মানবধিকার কর্মী ত্রিপা ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উবা থোয়াই মারমা, ওমেন্স ফেডারশন সদস্য এঞোসিং মারমাসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।